রোদে শুকানোর দিনসমূহ: আইয়্যামুত্ তাশ্রীক

ইসলামের আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যে কুরবানির ঈদ খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ঈদের পরবর্তী কিছু দিনকে “আইয়্যামুত্ তাশ্রীক” বলা হয়। আমরা এ শব্দগুলো অনেক শুনলেও এগুলোর অর্থ ও বিশ্লেষণ জানি না। এ লেখায় শব্দটির অর্থ ও ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণসহ এ দিনের করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
‘আইয়্যামুত্ তাশ্রীক’ শব্দটি দুইটি অংশে বিভক্ত:
আইয়্যাম (أيام): আরবি শব্দ ‘يوم’ (ইয়াওমুন) এর বহুবচন। অর্থ ‘দিনসমূহ’। কুরআনে এই শব্দ বহুবার এসেছে, যেমন: مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ — ‘বিচার দিনের মালিক’। এর আরেকটি উদাহরণ: أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ — নির্দিষ্ট দিনগুলো।
তাশরীক (تشريق): এই শব্দটি এসেছে شَرَّقَ ধাতু থেকে, যার অর্থ “সূর্যের দিকে নিয়ে যাওয়া” বা “রোদে শুকানো”। আগে আরবরা কুরবানির গোশত কেটে কেটে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতো। তাই এ দিনগুলোকে বলা হয় ‘রোদে শুকানোর দিন’ বা ‘আইয়্যামুত্ তাশ্রীক’।
ইসলামি শরিয়তের প্রেক্ষাপটে আইয়্যামুত্ তাশ্রীক:
শরীয়তের দৃষ্টিতে আইয়্যামুত্তাশরীক হলো কুরবানির ঈদের পরের তিন দিন। ১১, ১২ এবং ১৩ জিলহজ্জ।
এ দিনগুলোতে রোজা রাখা নিষেধ, এবং এগুলোকে ‘খাওয়া-দাওয়ার ও আল্লাহকে স্মরণ করার দিন’ বলা হয়েছে।
এ দিনের করণীয়:
কুরবানির ঈদের আগের দিন ফজরের পর থেকে ১৩ জিলহজ্জ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর নিচের তাকবীরটি বলতে হয়।
اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
এ তাকবীরকে বলা হয় “تكبيرات التشريق” (তাকবীরাতুত তাশরীক)
আইয়ামুত তাশরীক শব্দের সাথে তাকবীরাতুত তাশরীক শব্দের সম্পর্ক কী?
ইসলামের প্রতিটি উৎসব ও আনন্দ হলো আল্লাহর একটা ইবাদাত। যেহেতু কুরবানের পরের দিনগুলোতে গোস্ত অনেক বেশি থাকে, অনেক বেশি খাওয়া ও আনন্দ হয়ে থাকে। তাই এ দিনগুলোতে মানুষ আল্লাহকে ভুলে যাবার সম্ভাবনা থাকে। গোস্ত খাওয়ার পরে মানুষ যাতে আল্লাহকে ভুলে না যায়, তাই জোরে জোরে আল্লাহর তাকবীর বলার নিয়ম প্রচলিত হয়েছে।
যদিও উপরের কারণটা আসল কারণ নয়। আসল কারণ হলো, রাসূল সা এভাবে তাকবীর পড়েছেন, তাই আমরাও এভাবে তাকবীর পড়ি।
নিচের ভিডিওটি দেখুন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
https://www.youtube.com/watch?v=hNJSa-WfmMA






